1. clients@frilix.com : Frilix :
  2. aliakborkhanrahat@gmail.com : Khan Rahat : Khan Rahat
  3. sonalibangla24news@gmail.com : admin :
বিরহের কবি নজরুল ইসলামের যে বক্তব্য শুনে আপনি অবাক হবেন -
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
শিরোনাম:

বিরহের কবি নজরুল ইসলামের যে বক্তব্য শুনে আপনি অবাক হবেন

  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

ওয়েব ডেক্সঃ #বিরহের কবি নজরুলের নিজের বক্তব্য —–

মুসলমান সমাজ আমাকে আঘাতের পর আঘাত দিয়েছে নির্মমভাবে। তবু আমি দুঃখ করিনি বা নিরাশ হইনি। তার কারণ, বাংলার অশিক্ষিত মুসলমানরা গোঁড়া এবং শিক্ষিত মুসলমানরা ঈর্ষাপরায়ণ। আমি একটুও বানিয়ে বলছিনে। মুসলমান সমাজ কেবলই ভুল করেছে- আমার কবিতার সঙ্গে আমার ব্যক্তিত্বকে অর্থাৎ নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে। আমি মুসলমান- কিন্তু আমার কবিতা সকল দেশের সকল কালের এবং সকল জাতির। কবিকে হিন্দু-কবি, মুসলমান-কবি ইত্যাদি বিচার করতে গিয়েই এতো ভুলের সৃষ্টি!

আপাতত এইটুকুই বলে রাখি যে, আমি শরিয়তের বাণী বলিনি- আমি কবিতা লিখেছি। ধর্মের বা শাস্ত্রের মাপকাঠি দিয়ে কবিতাকে মাপতে গেলে ভীষণ হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ধর্মের কড়াকড়ির মধ্যে কবি বা কবিতা বাঁচেও না, জন্মও লাভ করতে পারে না। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ- আরব দেশ। ইসলাম ধর্মের কড়াকড়ির পর থেকে আর সেথা কবি জন্মাল না। “

মনের কথা কি মুখে সব বলা যায়! তার পরও কবির কিছু না বলা কথা ঃ রবি ঠাকুর আমায় প্রায়ই বলতেন,দেখ উন্মাদ,তোর জীবনে শেলির মতো কীটসের মতো খুব বড় একটা ট্র্যাজেডি আছে। তুই প্রস্তুত হ …! জীবনে সেই ট্র্যাজেডি দেখবার জন্য আমি কত দিন অকারণে অন্যের জীবনকে অশ্রুর বরষায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছি। কিন্তু আমারই জীবনে রয়ে গেলো বিশুষ্ক মরুভূমির মতো তপ্ত, মেঘের উর্ধ্বে শূন্যের মতো কেবল হাসি, কেবল গান, কেবল বিদ্রোহ। আমার বেশ মনে পড়ছে একদিন আমার জীবনের মহাঅনুভূতির কথা। আমার ছেলে মারা গেছে, আমার মন তীব্র পুত্র শোকে যখন ভেঙে পড়ছে, ঠিক সেই দিনই সেই সময় আমার বাড়িতে হাসনাহেনা ফুটেছে। আমি প্রাণভরে সেই হাসনাহেনার গন্ধ উপভোগ করেছিলাম। আমার কাব্য আমার গান, আমার জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য হতে জন্ম নিয়েছে। যদি কোন দিন আপনাদের প্রেমের প্রবল টানে আমাকে আমার একাকীত্বের পরম শূন্য থেকে অসময়ে নামতে হয়, তাহলে সেদিন আমায় মনে করবেন না, আমি সেই নজরুল। সেই নজরুল অনেক দিন আগে মৃত্যুর খিড়কী দুয়ার দিয়ে পালিয়ে গেছে। মনে করবেন, পূর্ণত্বের তৃষ্ণা নিয়ে যে একটি অশান্ত তরুণ এই ধরায় এসেছিলো, অপূর্ণতার বেদনায় তারই বিগত আত্মা যেন স্বপ্নে আপনাদের মাঝে কেঁদে গেলো।
“যদি আর বাঁশী না বাজে”, আমি কবি বলে বলছি নে, আমি আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছিলাম সেই অধিকারে বলছি, আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন, আমায় আপনারা ভুলে যাবেন না । বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি, আমি নেতা হতে আসিনি। আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম। সেই প্রেম পেলাম না বলে, আমি এই প্রেমহীন নিরস পৃথিবী থেকে নিরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম।

  • কাজী নজরুল ইসলাম (আর যদি বাঁশী না বাজে)

*যেদিন অামি চলে যাবো সেদিন হয়তো বা বড় বড় সভা হবে কতো প্রশংসা কতো কবিতা বের হবে হয়তো অামার নামে। ত্যাগী বীর, বিদ্রোহী বিশেষণের পর বিশেষণ টেবিল ভেঙে ফেলবে থাপ্পর মেরে বক্তার পর বক্তা। এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের দিনে বন্ধু তুমি যেনো যেওনা যদি পারো চুপটি করে বসে অামার জীবনের কোন একটি কথা স্মরন করো তোমার ঘরের অাঙিনায় বা অাশেপাশে যদি একটি ঝরা পায়ে পেশা ফুল পাও সেটিকে বুকে চেপে বলো বন্ধু অামি তোমাকে পেয়েছি।
—– কাজী নজরুল ইসলাম।

কবি নজরুল আলোর পরশে,শিশিরের ছোঁয়ায় গীতি ও গানে অসাধারণ কাব্যময়তা ও সুরময়তা সৃষ্টি করেছেন। অফুরন্ত সর্বতোমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন সুর, সঙ্গীত ও কাব্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে। সেই ক্ষণজন্মা কবি, গায়ক, সঙ্গীত বিশারদ, সুরস্রষ্টা, দার্শনিক, মানবতা ও ঐক্যের প্রতীক নজরুলকে কাব্যে, সঙ্গীতে, মানবতার দর্শনে ও আধ্যাত্মিকতার দিগন্তে ঐ খসে পড়া তারকার দীপ্তি আজও অম্লান ও চির ভাস্বর হয়ে আছে, থাকবে চিরকাল।
বিনম্রচিত্তে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি প্রাণের সেই কবি কে ।। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম অন্তর্দ্বন্দ্বময় সমাজের জাগরণকামী মানুষের মনের আকাঙ্ক্ষাকে রূপদান করেছিলেন। অবরুদ্ধ, শক্তিহীন সমাজের তারুণ্য ও পৌরুষকে জাগিয়ে তুলেছিলেন তাঁর কাব্য ও সজ্ঞীতের প্রবল শক্তি দিয়ে, মাধুর্য দিয়ে।
তিঁনি বাংলা ভাষার সীমানাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন শব্দের প্রাচুর্য দিয়ে, অলংকৃত করেছিলেন একগেয়িমতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ সেই ভাষাকে। তাঁর সর্বজাতীয় শব্দমালা গলিত হয়ে যে লাভাস্রোত সৃষ্টি করেছিল তা আজও গড়িয়ে যাচ্ছে শক্তি ও উত্তাপ নিয়ে।
তার নিজস্বতায়, অপ্রতিরোধ্য কাব্যিক ব্যক্তিত্বের ছায়াতলে তিঁনি আজও বিচরণ করছেন।
কবি নজরুলের গীতিমালায় যে প্রাণের স্পর্শ আমরা খুঁজে পাই, তাই আমাদের হৃদয় থেকে উচ্চারিত হয় প্রতিনিয়ত—

আমার চলার পথে সাহস জোগায় নজরুল।
এই জীয়ন জলেই জীবন সতেজ সজীব।
সকল হৃদয় তাঁর আলোয় আলোকিত হোক।
বাংলা সাহিত্যের এই দিকপালের সাহিত্য সাধনার দরুণ বাংলা ভাষা আজ বিশ্বজনীন হতে পেরেছে। আমার প্রেরণার সারথী এই মহারথীকে সতত হৃদয়ে ধারণ করতে সচেষ্ট থাকি।
তাঁকে এক জনমে ভালোবেসে ভরবে না মন ভরবে না ! তাঁকে নিয়ে হাজার জনম আলোচনা করলেও আলোচনা শেষ হবে না ।
অন্তিমে বলা যেতে পারে, কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন দুই বাংলার সঙ্গীতের অভুতপূর্ব মেলবন্ধনের এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত।

সাম্যের কবিকে দ্রোহী ভালবাসা //

(এলমে তাসাউফ : ইসলামের মূল বিষয় হলো শরিয়ত। এলমে তাসাউফ হলো গোপন জ্ঞান,আধ্যাত্মিক জ্ঞান,ঐশ্বরিক জ্ঞান,সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত জ্ঞান! এটা প্রজ্ঞাময়,চিরঞ্জীব,অতি দয়াশীল, প্রাচুর্যময়, প্রেমময়, ক্ষমাশীল,সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান,সর্বশক্তিমান, সারা জাহানের মালিক, অতিদয়াবান,তওবা গ্রহণকারী,অতিদানশীল, রক্ষাকর্তা, হিসাব গ্রহণকারী, শ্রেষ্ঠ বিচারক,শ্রেষ্ঠ জীবিকাদাতা ,দয়ার সাগর, অতি দয়ালু, প্রবল ক্ষমতাবান মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন সবাইকে দেয় না,সবাই পাওয়ার যোগ্য নয় ,এটা সবাই পায় না বা সবার জন্য নির্ধারিত হয় না। তবে শরীয়ত সবাইকেই পালন করা অবশ্যই কর্তব্য। শরীয়ত যদি আপনার হয়ে যায় তবে মারেফাত যাকে এলমে তাসাউফ বলছি ওটা সহজেই আয়ত্ত্ব করা যায়। শরীয়ত ছাড়া কিছুই মিলবে না। ) পারস্যের কবি মাওলানা জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি, শেখ সাদী ,মহাত্মা ফকির লালন শাহ ,কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ইলমে তাসাউফের ভান্ডার /

আধ্যাত্মবাদ কী:
দার্শনিক ব্যাখ্যাটি এরকমঃ Spiritualism, in philosophy, a characteristic of any system of thought that affirms the existence of immaterial reality imperceptible to the senses. Most patently, it applies to any philosophy accepting the notion of an infinite, personal God, the immortality of the soul, or the immateriality of the intellect and will. এটা প্রচলিত বয়ান। বাংলায় আধ্যাত্মবাদের যে ব্যাখ্যাটি প্রচলিত তা হলোঃ ‘যদি আপনি অনন্ত প্রকৃতিকে জানতে চান, অবশ্যই আপনাকে এমন কিছুকে উপলব্ধি করতে হবে যা ভৌত অস্তিত্বের নাগালের ওপারে।’ অর্থাৎ ধাপে ধাপে অসীমের দিকে ধাবমানতার প্রয়াসই হলো আধ্যাত্মিকতা।

প্রেম ও দ্রোহের কবির লেখা…

“সে চলে গেছে বলে কি গো
স্মৃতিও হায় যায় ভোলা!
মনে হলে তার কথা আজও
মরমে যে মোর দেয় দোলা॥

ওই প্রতিটি ধুলিকণায়
আছে তার ছোঁয়া লেগে হেথায়,
আজও তাহারই আসার আশায় রাখি
মোর ঘরের সব দ্বার খোলা॥

হেথা সে এসেছিল যবে
ঘর ভরেছিল ফুল-উৎসবে,
মোর কাজ ছিল শুধু ভবে
তার হার গাঁথা আর ফুল তোলা॥
সে নাই বলে বেশি করে
শুধু তার কথাই মনে পড়ে,
হেরি তার ছবিই ভুবন ভরে
তারে ভুলিতে মিছে বলা॥”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
Copyright © 2020 Frilix Group
Theme Customized By Kh Raad
error: Content is protected !!